অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা অ্যাফিলিয়েশন হচ্ছে এমন একটি মার্কেটিং সিস্টেম যার মাধ্যমে আপনি আনলাইনে ঘরে বসে আয় করতে পারেন। প্রথমেই আসুন আমরা জানতে চেষ্টা করি অ্যাফিলিয়েশন বিষয়টি কি: অ্যাফিলিয়েশন হচ্ছে একটি মার্কেটিং সিষ্টেম যা বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি ব্যাবহার করে। আমরা যদি বিশ্বব্যাপি বহুল পরিচিত এম্যাজান স্টোর amazon.com ইবে স্টোর ebay.com ব্রাউজ করি তাহলে দেখব যে এখানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনা যায়। এখন এই এম্যাজান বা ইবের পণ্য যদি আপনি নিজের জন্য না কিনে কোন মাধ্যমে সেল করে দিতে পারেন তাহলে সেটাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অর্থাৎ এম্যাজান বা ইবের পণ্য আপনি যদি কোন মাধ্যমে সেল করিয়ে দিতে পারেন তাহলে তারা আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমানে কমিশন দিবে, যেমন এম্যাজান স্টোরের ১০০০ ডলারের পণ্য আপনি সেল করিয়ে দিলে আপনাকে কমপক্ষে ৪০ ডলার কমিশন দিবে। এভাবে বিশ্বের প্রায় সব কোম্পানিই তাদের পণ্যের বিক্রির উপর কমিশন দেয়, আর সেটাই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এম্যাজান অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ জয়েন করার লিংক পাওয়া যাবে এখানে https://affiliate-program.amazon.com/

অমরা অনেকেই হয়ত নিজেদের ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করি, বিশ্বব্যাপি বহুল পরিচিত একটি হোস্টিং কোম্পানি হচ্ছে হোস্টগেটর hostgator.com এখন যদি আপনি হোস্টগেটর এর হোস্টিং আপনি কোন মাধ্যমে সেল করাতে পারেন তাহলে প্রতিটি সেলে হোস্টগেটর আপনাকে কমিশন দিবে আর এই ধরনের মার্কেটিং করাই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। হোস্টগেটর এর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ জয়েন করার লিংক পাওয়া যাবে এখানে http://www.hostgator.com/affiliates

আমরা যদি বাংলাদেশের একটি ওয়েবসাইট টেমপ্লেইট তৈরি করে এমন একটি কোম্পানি জুমশেপার joomshaper.com এর ওয়েবসাইট ভিজিট করি তাহলে দেখব যে এখান থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের জন্য থিম/টেমপ্লেইট, প্লাগিন্স কেনা যায়। এখন এই থিম/টেমপ্লেইট, প্লাগিন্স যদি আপনার মাধ্যমে সেল হয় তাহলে জুমশেপার আপনাকে কমিশন দিবে আর এই কমিশন পাওয়ার জন্য মার্কেটিং করাই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। জুমশেপারের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ জয়েন করার লিংক পাওয়া যাবে এখানে http://www.joomshaper.com/affiliate/affiliates/

এভাবে বিশ্বের পায় প্রতিটি কোম্পানিরই অ্যাফিলিয়েট পণ্য রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে হলে কি কি প্রয়োজন?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত অনলাইন মার্কেটিং তাই আপনাকে কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। ইন্টারনেট মার্কেটিং সম্পর্কে (সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন, ইমেইল মার্কেটিং, স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং) ভাল ধারণা নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরূ করলে ভাল হবে|

ভাল ইংরেজি জানলে আর ঠিকমত অধ্যবসায় করলে ৫ থেকে ৭ মাসের ভিতরেই আপনি দক্ষ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে পারবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শেখার জন্য যেসব বিষয় আপনাকে শিখেতে হবে তা হল:

  • সাবলীল ইংরেজি লেখার ক্ষমতা।
  • ব্লগ তৈরি ও তা রক্ষনাবেক্ষণ জানা।
  • ব্লগ প্রমোশনের বা মার্কেটিংয়ের জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) শিখতে হবে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং জানতে হবে।
  • ইমেইল মার্কেটিংয়ের দক্ষতা থাকতে হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনেকভাবে করা যায় যেমন – কোন একটি রিভিউ সাইট তৈরি করে তারপর সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে ভিজিটর জেনারেট করে অথবা স্যোসাল মিডিআ মার্কেটিং বা ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে।

প্রোডাক্ট রিভিউ সাইট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর অন্যতম একটি মাধ্যম। একটা জরিপে দেখা যায়ঃ

  • ৮৩% ভোক্তা বলেছেন প্রোডাক্ট রিভিউ তাদের পার্সেচ ডিশিসনকে প্রভাবিত করে
  • ৭০% ক্রেতা কেনার আগে অনলাইনে প্রোডাক্ট রিভিউ খুজে
  • প্রায় অর্ধেকেরও বেশিভাগ ক্রেতা প্রোডাক্ট রিচার্সের অংশ হিসাবে সার্ভে এবং ভোক্তাদের রিভিউ পড়ে থাকেন
  • প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জন মার্কিনি কেনার আগে কোনও না কোনো সময় প্রোডাক্ট রিভিউ পড়ে থাকেন।

সাধারণত দেখা যায় যে একজন ক্রেতা একটি পন্য কেনার পূর্বে তা সম্পর্কে অনলাইনে পণ্যটি সম্পর্কে জানতে চান। যেমন একজন ব্যাক্তি একটি Folding Bike কিনতে চান, সাধারণত বাইকটি কেনার পূর্বে সে এটি সম্পর্কে জানার চেষ্ঠা করে্ন। তখন তিনি হয়ত গুগল বা ইয়াহু সার্চ ইন্জিনে সার্চ দেয় “Best Folding bike”, “Folding bike review”, “Folding bike price”, “Folding bike price in usa” এসব কিওয়ার্ড লিখে। নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড এর জন্য আপনার প্রোডাক্ট রিভিউ সাইটটি যদি আপনি বিভিন্ন সার্চ ইন্জিনের প্রথমে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে আপনি প্রোডাক্ট অ্যাফিলিয়েট এর মাধ্যমে ভাল পরিমান টাকা আয় করে পারবেন।
কয়েকটি অ্যাফিলিয়েটমার্কেটিং সাইট:

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর অনেক বড় বড় সাইট বা নেটওয়ার্ক রয়েছে যাদের কাছ থেকে সাইনআপ করে আপনি বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন। বিশ্বের বড় কয়েকটি অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক হচ্ছে

আমাজন অ্যাফিলিয়েট https://affiliate-program.amazon.com/

ক্লিকব্যাংক http://www.clickbank.com/

ক্লিক সিউর https://www.clicksure.com/

কমিশন জাংশন http://www.cj.com/

ওয়ান নেটওয়ার্ক ডাইরেক্ট http://www.onenetworkdirect.com/

লিংকশেয়ার http://www.linkshare.com/

কমিশনসোপ https://www.commissionsoup.com/

শেয়ারএসেল http://www.shareasale.com/

ওয়ারিয়রপ্লাস http://www.warriorplus.com/

অ্যাফিলিয়েটউইন্ডো  http://www.affiliatewindow.com/

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কোথায় শিখবেন:

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখতে ইন্টারনেট মার্কেটিং এর অনেক কিছু জানতে হবে এবং প্রচুর পড়াশোনা করা দরকার। ইন্টারনেটে সার্চ করে বিভিন্ন রাইটারের লেখা পড়ে, তাদের পিডিএফ বই পড়ে বা ভিডিও দেখেও আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শিখতে পারেন। তবে ইন্টারনেট থেকে শিখতে প্রচুর সময় নষ্ট হতে পারে সরাসরি গাইডলাইনের অভাবে। কারন আপনি ভাল রিসোর্স কোথায় আছে জানেন না এবং ইন্টারনেটে সার্চ করে সবকিছু পাওয়া অনেক দূরুহ ব্যাপার। হাতে কলমে শেখার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রফেশনালি কেউ করছে তার কাছ থেকে বা ভালমানের কোন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটেরও দারস্থ হতে পারেন, যাঁরা দ্রুত আপনাকে একজন সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজের সম্ভাবনা

অনলাইনে টাকা আয়ের সবচেয়ে বড় যে উপায়, সেটিই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী, শুধু অ্যাফিলিয়েট মাকের্টিংয়ের মাধ্যমে মার্কেটাররা আয় করছেন ৪০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল এই বাজারের ১ শতাংশও যদি আমরা ধরতে পারি তাহলে প্রতি বছর দেশে আসবে ৪০০ কোটি টাকা। এই জায়গাটিতে পৌঁছনো খুব একটি কঠিন বলে মনে করেরনা বাংলাদেশের ব্লগার ও এফিলিয়েট মার্কেটার নাসির উদ্দিন শামীম।

আবার ব্লগ লিখে অ্যাফিলিয়েট মাকের্টিংয়ের ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্সসহ বিভিন্ন অ্যাড নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও নিজের সাইট থেকে আয় করা যায়। এখান থেকেই আমাদের তরুণদের কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে এখন অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার, গুগল অ্যাডসেন্স পাবলিশার রয়েছেন যারা ব্লগ লিখে আয় করছেন ৩ থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। বাংলাদেশি তরুণরাই যে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছেন তা আমি নিজেও জানতাম না এতদিন।

সম্প্রতি ব্যাংকে আমার চেক জমা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অফিসারের মুখেই শুনেছি একজন তরুণের গল্প, যে কিনা প্রতিমাসেই ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের গুগল অ্যাডসেন্স চেক জমা দেয়।

দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অন্যরাও এখন বিশাল এই বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। আমাদের মধ্যে এখন সচেতনতা দরকার এবং সেইসঙ্গে উদ্যোগ।